নিউজ ফোর সাইড ডেস্ক :: সমুদ্রের বালুচরে হাঁটতে গেলে চোখে পড়ে নানা ধরনের পোকামাকড়, লাল কাঁকড়া, ঝিনুকসহ বিভিন্ন ছোট ছোট প্রাণীর চলাচল। তারা নিজেদের মতো করে বালির নিচে বাসা তৈরি করে জীবনযাপন করে। কিন্তু এর মধ্যেই এক বিশেষ ধরনের ছোট্ট কাঁকড়া অজান্তেই সৃষ্টি করে ফেলে অপূর্ব নকশা, যা দেখতে অনেকটা বালির ওপর আঁকা আল্পনার মতো। এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায় কৌতূহলী পর্যটকেরা।
এই ছোট্ট প্রাণীটির নাম Sand Bubbler Crab। আকারে খুবই ছোট এই কাঁকড়া সাধারণত সমুদ্রের বালুচরে গর্ত করে বসবাস করে। খাবারের খোঁজে যখন তারা বালির ওপর ঘোরাফেরা করে, তখন মুখ দিয়ে বালির দানা ছেঁকে তার মধ্যে থাকা অণুজীব ও জৈব পদার্থ খেয়ে নেয়। এরপর অবশিষ্ট বালিকে ছোট ছোট গোল দানার আকারে বাইরে ফেলে দেয়। এভাবেই ধীরে ধীরে বালুচরে তৈরি হয়ে যায় অসংখ্য ছোট গোলাকার দানা, যা একসঙ্গে মিলিয়ে সৃষ্টি করে নান্দনিক নকশা বা আল্পনার মতো চিত্র।
প্রতিটি কাঁকড়া নিজের গর্তকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকারভাবে বালির দানা সাজিয়ে দেয়। ফলে দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন দক্ষ কোনো শিল্পী বালির ওপর সূক্ষ্ম হাতে নকশা এঁকেছেন। প্রকৃতির এই স্বতঃস্ফূর্ত শিল্পকর্ম পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ভোরবেলা বা সূর্যাস্তের সময় এই কাঁকড়াগুলো বেশি সক্রিয় থাকে। তখন সমুদ্রের ভেজা বালির ওপর অসংখ্য বৃত্তাকার নকশা তৈরি হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর জোয়ারের জল এসে সেই নকশাগুলো মুছে দিলেও আবার নতুন করে তৈরি হয় পরের দিন।
পরিবেশবিদদের মতে, এই ছোট্ট কাঁকড়াগুলো উপকূলের বাস্তুতন্ত্রের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বালিকে নাড়াচাড়া করে মাটির ভেতরের জৈব উপাদানকে উপরিভাগে নিয়ে আসে, ফলে উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
প্রকৃতির এই নিঃশব্দ শিল্পীকে কাছ থেকে দেখতে এবং বালুচরের অপূর্ব আল্পনা উপভোগ করতে তাই সমুদ্রতটে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। ছোট্ট প্রাণীর এই অনন্য সৃষ্টি অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে সমুদ্র ভ্রমণের এক নতুন আকর্ষণ।





No comments:
Post a Comment