নিউজ ফোর সাইড ডেস্ক :: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলির মধ্যে মারিশদা থানার অন্তর্গত বাহিরী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বিশেষ গুরুত্ব ও আবেগের স্থান দখল করে রয়েছে। আনুমানিক ৪৪২ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই রথযাত্রা আজও শতাব্দীপ্রাচীন রীতি-নীতি ও ধর্মীয় আচার মেনেই অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
বাহিরীর প্রাচীন জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে একাধিক রহস্য ও অলৌকিক কাহিনি। মন্দিরের দেওয়ালে খোদাই করা কিছু প্রাচীন লিপি আজও পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কোন ভাষায় সেই লিপি লেখা, তা এখনও গবেষকদের কাছে রহস্যই রয়ে গেছে। বছরের পর বছর এই অমীমাংসিত রহস্য সাধারণ মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, একসময় নাকি পুরীর জগন্নাথদেবের প্রতিষ্ঠা এই বাহিরী মন্দিরেই হওয়ার কথা ছিল। যদিও বিশেষ কিছু কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। তবুও এই মন্দিরকে ঘিরে মানুষের ভক্তি ও বিশ্বাস আজও অটুট। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এই ঐতিহাসিক মন্দির দর্শনে আসেন।
কয়েক বছর আগে সরকারি উদ্যোগে মন্দিরটির সংস্কার করা হয়। চারদিকে রেলিং, ফুলের বাগান এবং নান্দনিক রঙের ছোঁয়ায় মন্দিরটি নতুন রূপে সেজে ওঠে। বর্তমানে এটি শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত।
রথযাত্রার সময় বাহিরী এলাকা এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা, যেখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে অংশ নেন। বহু মানুষের কাছে এই রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আবেগের এক জীবন্ত প্রতীক।
শতাব্দী পেরিয়েও বাহিরী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা আজও ইতিহাস, রহস্য, ঐতিহ্য ও মানুষের অগাধ বিশ্বাসকে এক সুতোয় বেঁধে রেখে পূর্ব মেদিনীপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।




No comments:
Post a Comment