নিউজ ফোর সাইড ডেস্ক :: রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এবারের ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সংগঠনের শক্তি ও ঐক্যের বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে চলেছে। অতীতের মতো বিরোধী শিবিরকে আক্রমণ বা অন্য দলের নেতাদের দলে টানার কৌশলের বদলে এবার নিজেদের সংগঠনকে অটুট রাখার দিকেই বেশি জোর দিচ্ছে কালীঘাট।
দলের অন্দরে অসন্তোষ, একাংশের বিদ্রোহী মনোভাব এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার আবহে তৃণমূল নতুন স্লোগান ‘আমরা বেইমান নই’ সামনে এনে কর্মীদের মধ্যে আবেগ ও আনুগত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই স্লোগানের মাধ্যমে দলত্যাগী ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পরোক্ষ বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অনুগত কর্মীদের একত্রিত করার চেষ্টা করছে দল।
সংগঠন ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
দলের একাধিক নেতা-কর্মীর অবস্থান পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের কারণে সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে এবারের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতে অন্য দলের ভাঙনকে হাতিয়ার করে শক্তি বাড়ালেও বর্তমানে নিজেদের ঘর সামলানোই তৃণমূলের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
পুরনো কর্মীদের ফের গুরুত্ব
দলীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে দলের পাশে থাকা অথচ বিভিন্ন সময়ে গুরুত্ব হারানো নেতা-কর্মীদের আবারও সক্রিয় ভূমিকায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের কঠিন সময়ের সৈনিকদের সামনে এনে সংগঠনের প্রতি তাঁদের আনুগত্যকে কাজে লাগাতে চাইছে নেতৃত্ব।
উত্তর কলকাতায় নতুন সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার পর কুণাল ঘোষও এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে একাধিক সভা ও কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরির চেষ্টা করছেন। ‘আমরা বেইমান নই’ ব্যানারে আয়োজিত সভাগুলিতে মূলত দলের অনুগত কর্মীদের একত্রিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
একুশের মঞ্চে নজর রাজ্য রাজনীতির
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে ভিড়ের পরিমাণের পাশাপাশি নেতৃত্বের বার্তা এবং কর্মীদের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে। কারণ, এই সমাবেশ থেকেই আগামী দিনের সাংগঠনিক রণকৌশল ও রাজনৈতিক দিশা স্পষ্ট হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এবারের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শুধুমাত্র শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়, বরং দলীয় ঐক্য, আনুগত্য এবং সংগঠন পুনর্গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




No comments:
Post a Comment