নিউজ ফোর সাইড ডেস্ক :: ঝিনুক কুড়ানো হাতেই এবার গল্পের বই, উপকূলের প্রায় ৭০ শিশুর মুখে হাসি ফোটাল কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা
কয়েক বছর আগেও যাদের সকাল শুরু হতো সমুদ্রের তীরে ঝিনুক কুড়ানোর মধ্য দিয়ে, শনিবার সেই ছোট ছোট হাতেই উঠল রঙিন গল্পের বই। বইয়ের পাতায় নতুন স্বপ্ন খুঁজতে থাকা উপকূলের প্রায় ৭০ জন শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পূর্ব মেদিনীপুরের রঘুসর্দারবাড় জালপাই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে গেল কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘দি গৌরী কালচার অ্যান্ড এডুকেশনাল অ্যাসোসিয়েশন’। শিশুদের হাতে বিভিন্ন ধরনের গল্পের বই, শিক্ষামূলক পুস্তক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন সংস্থার সদস্যরা। শুধু তাই নয়, বইগুলি সংরক্ষণের জন্য বিদ্যালয়কে একটি আলমারিও উপহার দেওয়া হয় সংস্থার তরফে।
একসময় সরকারি সহায়িকার অবসরের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। প্রায় ৬০-৬৫ জন শিশু পড়াশোনা ছেড়ে মায়েদের সঙ্গে সমুদ্রতটে ঝিনুক কুড়ানোর কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছিল। সেই খবর পৌঁছেছিল নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ইয়ের কাছে। তাঁর উদ্যোগে প্রশাসনের সহযোগিতায় ২০২৩ সালে নতুন করে চালু হয় কেন্দ্রটি। তারপর থেকে দু'জন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে শিশুদের পাঠদান করে চলেছেন।
শনিবারের এই অনুষ্ঠান যেন সেই সংগ্রামের পথচলায় নতুন অধ্যায় যোগ করল। বই বিতরণের পাশাপাশি শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের। মাছ, মাংস ও মিষ্টি সহযোগে এলাহি খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ই বলেন, “সমুদ্র উপকূলের এই শিশুদের শিক্ষার আলো থেকে দূরে সরে যেতে দিতে চাইনি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সমাজের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের সহযোগিতায় আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আজকের এই উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস জোগাবে।” শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের এগিয়ে আসার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।




No comments:
Post a Comment