দীঘায় ঝিনুক শিল্পের পেছনে কি চলছে জানেন? তাহলে জানুন এখনই -
দিঘায় ঝিনুক শিল্পে টিকে থাকার লড়াই
পর্যটনের ভরসায় উপকূলের শতাধিক পরিবারের জীবন জীবিকা।
সমুদ্রের ঢেউ ভাঙে, জোয়ার-ভাটার ছন্দে বদলে যায় তটরেখা। আর সেই তীরেই প্রতিদিন নতুন করে জীবনের রঙ খুঁজে পান বহু মানুষ। পর্যটন নগরী -র উপকূল জুড়ে গড়ে উঠেছে ঝিনুক শিল্প—যা আজ বহু নিম্নআয়ের পরিবারের প্রধান রোজগারের পথ।
ভোর হতেই জেলেরা মাছ ধরার পাশাপাশি সংগ্রহ করেন সমুদ্রের তীরে ভেসে আসা ঝিনুক। পরে বাড়ির উঠোনে বসেই শুরু হয় কারুকাজ। ছোট ছোট হাতুড়ি, ফাইল ও আঠা দিয়ে তৈরি হয় হার, কানের দুল, ল্যাম্পশেড, শোপিস, দেওয়াল সাজ—যা পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয় স্মারক।
স্থানীয় এক কারিগরের কথায়,
“মাছ ধরার উপর নির্ভর করলে সারা বছর সংসার চলে না। ঝিনুকের কাজই এখন ভরসা।”
দিঘার সমুদ্রসৈকতে আসা পর্যটকের সংখ্যাই এই শিল্পের ভাগ্য নির্ধারণ করে। শীত, পুজো ও ছুটির মরশুমে বিক্রি বাড়ে কয়েকগুণ, কিন্তু বর্ষা বা অফ-সিজনে দোকান প্রায় ফাঁকা থাকে। ফলে কারিগরদের আয়ও মৌসুমি হয়ে পড়ে।
নতুন করে নাইট মার্কেট ও সমুদ্রপাড়ের দোকানপাট বাড়ায় ব্যবসা কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে।
বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব স্মারক হিসেবে ঝিনুকের পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।
তবে এই শিল্পের সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ—
কাঁচামালের অভাব,প্লাস্টিকের সস্তা পণ্যের প্রতিযোগিতা,পর্যাপ্ত সরকারি বিপণন সহায়তার অভাব,তরুণ প্রজন্মের অনাগ্রহ
কারিগরদের দাবি, প্রশিক্ষণ ও অনলাইন বিপণনের ব্যবস্থা হলে এই শিল্প আরও বড় বাজার পেতে পারে।
ঝিনুক শিল্প শুধু ব্যবসা নয়, উপকূলের সংস্কৃতির অংশ। পর্যটকদের হাতে বিক্রি হওয়া প্রতিটি ছোট শোপিসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এক একটি পরিবারের জীবিকার গল্প। তাই শিল্প বাঁচাতে সরকারি উদ্যোগ ও বাজার সম্প্রসারণ জরুরি বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
সমুদ্রের ঢেউ যেমন থেমে থাকে না, তেমনই দিঘার এই ছোট শিল্পও লড়ে যাচ্ছে টিকে থাকার জন্য।


No comments:
Post a Comment