Breaking News

Translate

Saturday, February 28, 2026

সমুদ্রের বালুচরে লঙ্কা চাষে স্বাবলম্বিতার পথে মন্দারমনি উপকূলের চাষিরা।

নিউজ ফোর সাইড::নিজস্ব সংবাদদাতা:: পূর্ব মেদিনীপুর:: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মন্দারমনি উপকূলবর্তী দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর এলাকায় বয়া কালী মন্দির সংলগ্ন বিস্তীর্ণ সমুদ্রের বালুচর আজ এক নতুন সম্ভাবনার গল্প বলছে। যেখানে একসময় ছিল শুধুই বালি আর উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ, সেখানে এখন চোখে পড়ছে সবুজে মোড়া লঙ্কার বাগান। মৌসুমী লঙ্কা চাষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চাষিরা খুঁজে পেয়েছেন আর্থিক স্বাবলম্বিতার নতুন দিশা।


প্রতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজার সময় থেকেই শুরু হয় লঙ্কার চারা রোপণের কাজ। উপকূলীয় আবহাওয়া ও বালুমাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানে চাষ হওয়া জনপ্রিয় ‘বুলেট লঙ্কা’ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ডিসেম্বর মাস নাগাদ গাছে ফল ধরতে শুরু করে এবং জানুয়ারি থেকে পুরোদমে সংগ্রহের কাজ চলে। এই অঞ্চলে উৎপাদিত লঙ্কার ঝাঁজ, রং ও গুণমান ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও যথেষ্ট বেশি।


এই কৃষিকাজের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। একটি লঙ্কা বাগানে সাধারণত ১০ থেকে ১২ জন মহিলা শ্রমিক নিয়মিতভাবে পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের কাজে যুক্ত থাকেন। পুরুষদের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত—মূলত জমি প্রস্তুতি ও তদারকির কাজেই তারা অংশ নেন। ফলে মৌসুমী লঙ্কা চাষ গ্রামীণ মহিলাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।


স্থানীয় বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরা ও মাছের ব্যবসার উপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে অতিরিক্ত আয়ের আশায় তারা কৃষিকাজের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছেন। চাষিদের দাবি, অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি মৌসুমে বিঘা প্রতি প্রায় এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাভ সম্ভব হয়। যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর সমান লাভ হয় না।

মন্দারমনি যাওয়ার পথে মেরিন ড্রাইভ সড়কের ধারে বিস্তীর্ণ সবজি ও লঙ্কার বাগান এখন পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। লঙ্কা চাষের পূর্বে একই জমিতে মুলা, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি ও টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চাষ করা হয়। একদিকে সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য এবং অন্যদিকে সবুজে ঘেরা কৃষিজমি—এই অনন্য পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।


অনেক পর্যটককেই সরাসরি বাগান থেকে টাটকা সবজি ও লঙ্কা ন্যায্যমূল্যে কিনতে দেখা যায়। এর ফলে কৃষক ও পর্যটকদের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংযোগ, যা স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করছে।

সব মিলিয়ে, মন্দারমনি উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের বালুচরের উপর লঙ্কা চাষ আজ শুধুমাত্র কৃষিকাজ নয়, বরং উপকূলীয় অর্থনীতির এক সফল বিকল্প মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিনির্ভর আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে এই উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে উপকূলীয় কৃষির সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।

No comments:

Post a Comment

আপনি রিপোর্টার

আপনাদের এলাকার যে কোন খবর পাঠান এই হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে
9609 29 1919

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

9609291919